বাংলাদেশ

রাজনীতি

টেকনোলজী

Latest Updates

SSC Exam Routine 2019 Download | ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন ডাউনলোড

January 14, 2019
SSC
SSC Routine 2019 Bangladesh Education Board www.educationboard.gov.bd. SSC Routine 2019 Dhaka Board will distribute today. Download SSC Exam Routine. Optional School Certificate (SSC) and equal examinations will be begin from first February 2019 SSC Exam and Dakhil Exam 2019 will be begin same date together.

We additionally realize that Madrasha Board it is called Dakhil examination. Dakhil examination will be begin from second February 2018. The instruction framework and foundation of Bangladesh has three noteworthy stages-essential, optional training and higher instructions.

SSC Exam Routine 2019 Bangladesh 


Consistently the number is expanding who showed up SSC test. That, as well as encourages the legislature to get information about the education rate of Bangladesh. In 2019, SSC examinees will participate under 10 training sheets with 1 madrasa and 1 specialized instruction board. All out 13,15,002 understudies enrolled for the SSC test Last year. The most number of understudies are enlisted under Dhaka Education Board for SSC Exam 2019.

Eight instruction sheets have claim site when ssc test result distributed then all training board additionally distributed ssc test result 2019. All data of SSC Exam can get from educationboard.gov.bd Website.

At the point when SSC Routine 2019 will be distributed? 

There is no positive date about SSC Exam schedule. Exclusively it relies upon Bangladesh Education Board. Be that as it may, Normally, SSC Routine distributes in November</strong>. In this way, SSC routine timetable will be distributed inside brief time. For political circumstance SSC routine timetable progress toward becoming deferral.

At the point when SSC Exam 2018 will begin? 

Consistently SSC Exam will be held in February month. In this way, SSC Exam 2019 will be begin from February 2019. Ii will proceed till March. The word SSC represents Secondary School Certificate. Understudies who have finished their investigation on 10 grades, they need to show up SSC test to get the Government Issued Certificate.

Today Tuesday Bangladesh instruction board distributes a Draft SSC Exam Schedule and Deputy Secretary of the Ministry of Education Enamul Kader said to express assessment about this SSC Routine 2019.




SSC or Similar Exam Routine 2019 ideally will be discharged amidst November 2018. So you need to hold on to see the daily practice. Bangladesh instruction board will distribute the everyday practice. At the point when this normal will declare, we likewise advance the daily schedule at our site. Since we generally distribute all refresh news in our site.

Would you like to Education Board SSC Exam Routine 2019 don't as well, stress!! Here we have transferred SSC Routine PDF and JGP format.Madrasha Education Board has distributed their daily schedule. everybody can download it from authority site of Bangladesh instruction board.

Would you like to Education Board SSC Exam Routine 2019 don't as well, stress!! Here we have transferred SSC Routine PDF and JGP format.Madrasha Education Board has distributed their daily schedule. everybody can download it from authority site of Bangladesh training board.

SSC Result 2019 Will Be distribute on May 2019. You will get all board ssc result 2018 from our site. This is a best instructive news entry for all training board Bangladesh. you will get SSC Exam Routine as well as SSC Exam Result 2019 BD. In the event that you have any inquiry regarding SSC Routine Bangladesh Education Board, remark underneath or message us through our Facebook Page

SSC Exam Form Fill up Notice 2019 


Barely any days age, SSC test shape top off notice has been distributed on Dhaka training board site. SSC Online shape top off beginning from seventh November to fourteenth November 2018. Each understudy can without much of a stretch top off their Form through the Dhaka board official site (dhakaeducationboard.gov.bd). In underneath I am sharing authority shape top off notice for forthcoming SSC examination.


We prescribe you to get SSC test routine from the Bangladesh Education Board Official Website. There are such a large number of different sites accessible which give an opportunity to gather the daily schedule. You can visit our site again to gather your SSC Exam Routine amid the routine Publish season. This is perfect page for gather your up and coming everyday practice with PDF record.



We will answer at the earliest opportunity. Coincidentally in the event that you have any inquiry regarding SSC test routine or ssc result for all instruction board, if it's not too much trouble fell allowed to make any inquiry through remark box or message us facebook page.


ব্রেকিং! গ্রেপ্তারি ক্ষমতা নিয়েই নামছে সেনাবাহিনী!

December 29, 2018
সশস্ত্র বাহিনী


গ্রেপ্তারি ক্ষমতা নিয়েই- আসন্ন নির্বাচনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে সেনাবাহিনী। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ ও ১৩০ ধারা অনুযায়ী।

এবার মোতায়েন করা হচ্ছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭, ১২৮, ১২৯, ১৩০, ১৩১ ও ১৩২ ধারায়। ইসির খসড়া পরিপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই বৈঠক হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩২ ধারার মধ্যে ১৩১ ধারায় সেনাবাহিনীর কোনো কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারকে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও জননিরাপত্তা বিপদগ্রস্ত হওয়ার মতো সমাবেশ ভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া আছে।

নির্বাচন নিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে সতর্ক নজরদারি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয় সভায় সিইসি ওই নির্দেশ ও পরামর্শ দেন।

সভায় বক্তব্যে সিইসি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে কি না, তা-ও নজরে রাখতে বলেন। ২০১৪ সালের সহিংস অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ছক তৈরি করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল ইসির আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভার কার্যপত্রে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভোটগ্রহণের আগে, ভোটগ্রহণের দিন ও পরে শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার জন্য ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত (যাতায়াত সময় ব্যতীত) সশস্ত্র বাহিনী নিয়োগের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে এরই মধ্যে অনুরোধ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ হতে নির্বাচনী এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামো এবং নির্বাচনী পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার জন্য প্রতি জেলায় সশস্ত্র বাহিনীর ছোট আকারের টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

সশস্ত্র বাহিনীর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে কার্যপত্রে বলা হয়েছে,

‘(ক) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ প্রতিটি জেলা/উপজেলা/মেট্রোপলিটন এলাকার নোডাল পয়েন্ট এবং অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত থাকবে।

(খ) রিটার্নিং অফিসারের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুসারে উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োগ করা হবে।

(গ) রিটার্নিং অফিসার সহায়তা কামনা করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা প্রদান অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির, অন্যান্য আইনের বিধান ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনা অনুসারে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

(ঘ) রিটার্নিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদা ব্যতিরেকে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে কিংবা ভোট গণনা কক্ষে কোনো প্রকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে না। (

ঙ) ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দি সিভিল পাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

(চ) উপকূলবর্তী এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

ছ) ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত সেনা সদস্যের সংখ্যা রিটার্নিং অফিসারের সাথে সমন্বয় করে কমবেশি করা যাবে।

(জ) সেনা সদরের বিবেচনায় প্রতিটি স্তরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা সদস্য সংরক্ষিত হিসেবে মোতায়েন থাকবে।

(ঝ) গুরুত্বপূর্ণ সড়ক/মহাসড়কসমূহের নিরাপদ যান চলাচল এবং স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করবে।’

এতে আরো বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী তাদের আওতাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

এ ছাড়া ইভিএম কেন্দ্রে যেসব সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবে তাদের নিরাপত্তা বিধানসহ প্রয়োজন অনুসারে আনুষঙ্গিক বিষয়াদির ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

(ণ) নির্বাচনী এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর টিম ওই ছয়টি নির্বাচনী এলাকায় ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণসংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধানে নিবিড় ও অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।

(ত) রিটার্নিং অফিসার ও প্রিসাইডিং অফিসারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে দায়িত্ব পালন করবে।’

জানা যায়, গত বছর ২৪ অক্টোবর ইসির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারায় সেনা নিয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

সংলাপে কয়েকজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৯ থেকে ১৩০ ধারায় এবং সেনা বিধিমালা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেটের আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েনে কোনো কাজ হবে না।

এ ছাড়া দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনে ইসি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারা অনুসারে সেনাবাহিনী নিয়োগ করলে কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ওই বাহিনী অনিয়ম রোধে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল।

ওই সময় একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, ইসি সেনাবাহিনীকে ‘ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল ক্ষমতা’ দিয়েছে। এর জবাবে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ইসি সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘উপজেলা নির্বাচনে কমিশন সশস্ত্র বাহিনী বা সেনাবাহিনীকে ম্যাজেস্ট্রিয়াল বা বিচারিক ক্ষমতা দেয়নি।

এ নির্বাচনে কোনো সহিংসতা রোধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্ট্রাইকিং হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি নির্বাচনী এলাকায় দৃশ্যমান করার জন্য নির্বাচন কমিশন বিশেষভাবে নির্দেশনা প্রদান করে।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা বা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরে আসামাত্র সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্মকর্তা দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (ফৌজদারি কার্যবিধি), ১৮৯৮-এর ধারা ১৩১ অনুসারে তাত্ক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে মর্মে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনকে জানিয়ে দেওয়া হয়।’

ফৌজদারি কর্যবিধির ১৩১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যখন এইরূপ কোনো সমাবেশ দ্বারা জননিরাপত্তা সুস্পষ্টভাবে বিপদগ্রস্ত হয় এবং কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায় না, তখন সেনাবাহিনীর কোনো কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এইরূপ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে পারেন এবং এইরূপ ছত্রভঙ্গ করার অথবা আইনানুসারে শাস্তি দেওয়ার জন্য ওই সমাবেশে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করতে পারেন।

তবে এই ধারা অনুসারে কাজ করার সময় তাঁর পক্ষে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়, তাহলে তিনি (কমিশনপ্রাপ্ত সামরিক অফিসার) তা করবেন এবং অতঃপর কাজ চালিয়ে যাওয়া না বা না যাওয়া সম্পর্কে তাঁর (ম্যাজিস্ট্রেটের) পরামর্শ অনুসরণ করবেন।’

২০১৪ সালের কথা মাথায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ছক তৈরির নির্দেশ : গতকাল নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সমন্বয় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সিইসি। তিনি ২০১৪ সালের সহিংস অবস্থার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তার ছক তৈরি করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ‘পেছনের একটা ঘটনার রেশ টানা প্রয়োজন। সেটি হলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। সেই নির্বাচনের অবস্থা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। তখন ভয়ংকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ঘটনার আলোকে আমাদের এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতির রূপরেখা ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘তখন মাঠে সব বাহিনী ছিল। সশস্ত্র বাহিনী ছিল, পুলিশ বাহিনী ছিল, র‌্যাব ছিল, বিজিবি ছিল। তবুও আমরা কী দেখেছিলাম! পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন, প্রিসাইডিং অফিসার নিহত হয়েছিলেন, ম্যাজিস্ট্রেট নিহত হয়েছেন, শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। সেটা কী পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছিল, আমরা কেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সে প্রসঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ ও প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। এটি ভুলে গেলে চলবে না।’

সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন সভায়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিইসি। সিইসি স্বাগত বক্তব্য দেওয়ার পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাগত বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘আমরা কিন্তু আশঙ্কাগুলো একেবারেই অবহেলা করতে পারি না। যেদিন প্রতীক বরাদ্দ হলো তার পরের দিনই দুর্ঘটনা ঘটেছে। সে ঘটনাগুলো যত ছোটই হোক না কেন, দুটি জীবন চলে গেল, সে দুটি জীবনের মূল্য অনেক।

কিন্তু কেন হলো? তারপরে এখানে ওখানে ভাঙচুর, প্রতিহত করা। এগুলোর পেছনে কি রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণ আছে? নাকি সেই ২০১৪ সালের মতো ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে? এগুলো কিন্তু ভালোভাবে নজরে নিতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সতর্ক নজরদারি থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটে গেলে একজনের দোষ আরেকজনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হালকাভাবে নিলে হবে না। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সতর্ক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি সতর্ক নজরদারি রাখার অনুরোধ করব।’

নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ করে সিইসি বলেন, ‘দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারি ও নিরপেক্ষতার সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সব বাহিনীর কৌশল ঠিক করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বেশি তথ্য-উপাত্ত থাকে।

তথ্য-উপাত্তগুলো প্রয়োগ করে অন্য সব বাহিনীর আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ছক তৈরি করতে হবে। সব গোয়েন্দা সংস্থার সতর্ক নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং এতে বিজিবিকে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন হবে। কারণ এতে তাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে।’

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সব প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চ্যালঞ্জ জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ইসির নিয়ন্ত্রণে রাখা। এটি খুব দুরূহ।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সবার প্রতি সমান আচরণ করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত যদি নির্বাচন হয়, তবে এই নির্বাচন অবশ্যই স্বচ্ছ ও শুদ্ধ হতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, ‘পেশাদারি দেখাতে হবে। অতি উৎসাহ বা নির্লিপ্ততা যেন না দেখি।’ তিনি বলেন, ‘প্রার্থী ও ভোটাররা ভোট দিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়ি আসবে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান দেখতে চাই।’

কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘মাঠে সবার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক বলা যাবে না। কোনো কারণ ছাড়া কাউকে গ্রেপ্তার করলে সে জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সবার প্রতি আইনের প্রয়োগ অভিন্ন হতে হবে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘কাউকে কেন ও কিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা রিটার্নিং অফিসার জানেন না, তাহলে কিসের সমন্বয় আছে!’ তিনি বলেন, ‘ভোটার ও জনগণ সবাই ইসির দিকে তাকিয়ে আছে। তাদের প্রশ্ন, আমরা ভোট দিতে পারব কি না, ভোট দিয়ে ফিরে আসতে পারব কি না? আমাদের কথা হলো, ইসির ভাবমূর্তি যেন নষ্ট না হয়।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আইনানুগভাবে প্রার্থীরা যেন প্রচার চালাতে, ভোটাররা যেন ভোট দিতে পারে। কোনো প্রকার সহিংসতা ও প্রাণহানি হোক, তা আমরা চাই না।’ তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহী না হতে পরামর্শ দেন।

সূত্র মতে, বৈঠকে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, নির্বাচনে এ পর্যন্ত বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে মোবাইল ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা ছাড়া আর কারো মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন। বেশি আগে থেকে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে মত দেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের আইজি, র‌্যাবের ডিজি, বিজিবির ডিজি, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিসহ সব জেলার এসপি, সব রিটার্নিং অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

–কালেরকন্ঠ

পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, বাড়িঘর-দোকানপাটে আগুন (ভিডিও)

December 24, 2018
পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, বাড়িঘর-দোকানপাটে আগুন

ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়া, দোকানপাট, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।


রোববার রাতে দফায় দফায় এসব ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শরীফুল ইসলাম নামে একজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাড়িঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশ দাবি করেছে, পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে একদল যুবলীগ কর্মী উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের বেতাগাঁও গ্রামে গিয়ে ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

এতে ২ জন আহত হয়। এ ঘটনার জের ধরে হেলমেট পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত বেতাগাঁও গ্রামের বিএনপি কর্মী শফিকের বাড়ি ও দোকানে আগুন ও জালালের বাড়ি ও দোকানে আগুন এবং শাহীন নামে এক ব্যক্তি ঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

এ সময় মাওলানা ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের ইলেকশান বাজারে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী হালিমের দোকান, জয়নাল নামে এক ব্যক্তির হার্ডওয়্যার দোকান, মঘুয়া গ্রামের শাকের নামে এক ব্যক্তির দোকান ও জামায়াত নেতা শামছু উদ্দিনের মার্কেটে ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি নজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

আজ রাত বারোটায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ আর্মি

December 23, 2018
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । ছবিঃ উইকিপিডিয়া

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র ও ভোটগ্রহণের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং নির্বাচনী এলাকায় যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর, সোমবার থেকে মাঠে নামছেন সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী) সদস্যরা।

সে হিসেবে আজ রবিবার মধ্যরাতের পর থেকেই স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মাঠে নামার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের। নির্দেশনা পেয়েই সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলমগীর কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নির্বাচনে ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী কাজ করবেন সশস্ত্র বাহিনীর এ সদস্যরা। তারা জেলা/উপজেলা/মহানগর এলাকার সংযোগস্থলে ও অন্যান্য সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান করবেন। তারা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী টহল ও অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্রে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মপরিধিতে বলা হয়েছে-নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা সহায়তা চাইলে আইনশৃঙ্খলা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পুলিশসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তারা সহায়তা করবেন।

পাশাপাশি রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা/থানায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা ভোট গণনাকক্ষের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

সেনাবাহিনী বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন না। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।

সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আইএসপিআর এর বিজ্ঞপ্তি


যে কোনো অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে সশস্ত্র বাহিনীকে ডাকা হলে, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৭ থেকে ১৩২ ধারা অনুযায়ী কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো উপায়ে বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা না গেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে পারবেন। সেই অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে কমিশন্ড অফিসার সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে পারবেন।


যে কোনো অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কায় সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটকে লিখিত নির্দেশ দেয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মৌখিক নির্দেশ দেয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তা লিখিত আকারে দেবেন।


এরআগে, গত ১৩ ডিসেম্বর সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। ওইদিন তিনি বলেন, ‘ইসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। এছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে। এক হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি এখন মাঠে কাজ করছে।

ইসি সূত্র জানায়, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি টিমের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পরই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আদলে এবারও ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবেন।

এরআগে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০১৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫ দিন মাঠে ছিল সেনাবাহিনী। তারা সাধারণ এলাকায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন এলাকায় একজন কমিশনারের অধীনে দায়িত্ব পালন করে। ওই নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে প্রতিটি জেলায় একটি ব্যাটালিয়ন (৭৪০ সদস্য) ও প্রতিটি উপজেলায় এক প্লাটুন (৩৫ জন) সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচন সামনে রেখে চার ডিসি কে হুমকী !

December 21, 2018
হুমকী পাওয়া চার ডিসি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য সতর্ক করে চার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বেনামে চিঠি দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে। গত কয়েক দিনে এ জেলা প্রশাসকদের হুমকি দিয়ে ডাকযোগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

হুমকি পাওয়া ডিসিরা হলেন; বাগেরহাটের তপন কুমার বিশ্বাস, ফরিদপুরের উম্মে সালমা তানজিয়া, বরগুনার কবির মাহমুদ ও সিরাজগঞ্জের কামরুন নাহার সিদ্দিকা ।

বাগেরহাট: ডাকযোগে বাগেরহাটের ডিসিকে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সময়ে আপনার সকল কার্যকলাপ তৎপরতা আপত্তিকর পক্ষপাতদুষ্টে দৃষ্ট। আপনি কি প্রজাতন্ত্রের? আওয়ামী লীগ কর্মী? আপনারা হয়ত সব খবর রাখেন না। নির্বাচনের আগে পরে কিছু তো হবে। কেউ বসে নেই, তাই আপনার প্রতি অনুরোধ আপনি আগামী তিনদিনের মধ্যে শতভাগ নিরপেক্ষ হয়ে যান। হতে হবে। অন্যথায় এ্যাকশন। আপনার পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজন। এবার কৌশল পরিবর্তন, যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই আক্রান্ত করা হবে। এবার আপনারাই (ডিসি) টার্গেট, এবার আর ছাড় দেয়া হবে না।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আপনার প্রতিদিনের তৎপরতা মনিটর হচ্ছে, আপনার অপরাধ দিনদিন ভারী হচ্ছে। তাই টার্গেট থেকে বাদ পড়তে নিজেকে শতভাগ নিরপেক্ষ প্রমাণ করুন। অন্যথায় এ্যাকশন।’

এই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আমার মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য এ চিঠিটি দেয়া হয়ে থাকতে পারে। আমি ভীত না হয়ে মনোবলকে শক্ত রেখে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাগেরহাটে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করব। আমাকে দেয়া হুমকির চিঠির বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারকে জানানো হয়েছে। আমার সহকর্মীরাও বিষয়টি অবহিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

ফরিদপুর:

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়াকে গত বুধবার উড়ো চিঠির মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে কাজ না করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের জানমালের ক্ষতি করা হবে।

জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া জানান, খামের ওপর ‘গোপনীয়’ লেখা চিঠিটি অফিসের সিএ’র মাধ্যমে তার হাতে পৌঁছে। লাল-সবুজ কালি দিয়ে লেখা চিঠিটি তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চিঠিতে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধন করা হবে মর্মে হুমকি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানান, তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসার হিসেবে মোটেও বিচলিত নন এ চিঠি পেয়ে। চিঠির নিচে ‘চলমান’ লেখা রয়েছে। এ থেকে অনুমান করা হচ্ছে আগামীতে এ জাতীয় চিঠি তার কাছে আসতে পারে।


সিরাজগঞ্জ:

এদিকে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা ও তার পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে সিরাজগঞ্জ ডিসি অফিসের ঠিকানায় হুমকির এ চিঠিটি আসে।

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা জানান, খাকি রঙের খামে এক পাতার এই চিঠিতে প্রেরকের নাম-ঠিকানা লেখা নেই। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আমার কর্মকাণ্ড তারা খেয়াল করছে। তিনদিনের মধ্যে আমি যদি ঠিক না হই তাহলে তারা আমাকে দেখে নেবে। শুধু আমাকে না আমার আত্মীয়-স্বজন ছেলে-মেয়ে ও সম্পত্তির উপর তারা নজর রাখছে। ঠিক না হয়ে গেলে তারা আক্রমণ চালাবে। চিঠির শেষের অংশে লেখা আছে চলমান।

বরগুনা:

বরগুনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কবির মাহমুদ উড়ো চিঠিতে হুমকির বিষয়ে জানান, বৃহস্পতিবার আমার নামে ডাকযোগে একটি চিঠি আসে। সেটি খুলে দেখতে পাই, বরগুনার দুটি সংসদীয় আসনের নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের জন্য হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।


ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বিদেশি কূটনীতিকেরা

December 19, 2018

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, তুরস্ক, ডেনমার্ক, ফিলিপাইন, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুপুর দুইটায় বৈঠক শুরু হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক চলছে।


ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তাবিথ আউয়াল, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, জেবা খান, আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত আছেন।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮

December 19, 2018
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮


নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

ভাষণ
শেখ হাসিনা
সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা।
মঙ্গলবার
৪ পৌষ ১৪২৫
১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ,
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।
সুধিমণ্ডলী।

আসসালামু আলাইকুম।
আপনাদের সবাইকে বিজয়ের মাসের শুভেচ্ছা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় দেশবাসী এবং দেশের বাইরে যাঁরা এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, তাঁদেরও শুভেচ্ছা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে। স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতা – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপটেন এম মনসুর আলী এবং এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান কে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহিদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা বোন কে। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাচ্ছি। মুক্তিযোদ্ধাদের জানাচ্ছি সালাম।

আমি গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের শিকার আমার মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, আমার তিন ভাই- ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল ও দশ বছরের শেখ রাসেল, কামাল ও জামালের নবপরিণীতা স্ত্রী সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জামিলসহ সেই রাতের সকল শহিদকে।

আজকের দিনে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশসহ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দকে।

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য যাঁরা অকাতরে জীবন দিয়েছেন সেই ভাষা শহিদদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

স্মরণ করছি, ২০০৪ সালের ২১-এ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভী রহমানসহ ২২ নেতা-কর্মীকে।

স্মরণ করছি ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামাত জোটের সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার, মঞ্জুরুল ইমাম, মমতাজউদ্দিনসহ ২১ হাজার নেতাকর্মীকে।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে এবং ২০১৫ সালের ৪ঠা জানুয়ারি থেকে বিএনপি-জামাত জোট পরিচালিত অগ্নি সন্ত্রাস ও সহিংসতায় যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

সেলিম, দেলোয়ার, নূর হোসেন, বাবুল, ফাত্তাহ, রাউফুন বসুনিয়াসহ স্বৈরাচার বিরোধী এবং ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,
২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১০ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিপুলভাবে বিজয়ী করে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশতবার্র্ষিকীকে লক্ষ্য করে আমরা নির্বাচনী ইশতেহার রূপকল্প-২০২১ ঘোষণা করেছিলাম। যার মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়ে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা।

২০১৪ সালে দশম নির্বাচনের আগে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে রূপকল্প ২০৪১ ঘোষণা করেছিলাম। আপনারা ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত সরকার পরিচালনার ম্যান্ডেট দিয়ে সেই রূপকল্প বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সাফল্যের সবটুকু আপনাদের অবদান।
সুধী,
আজকের বাংলাদেশ আর্থিক দিক থেকে যেমন শক্তিশালী, তেমনি মানসিকতার দিক থেকে অনেক বলীয়ান। ছোট-খাটো অভিঘাত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে পারবে না।

২০১৫ সালে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা দিয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।

মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৭৫১ ডলারে উন্নীত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের উপর। দারিদ্র্যের হার ২০০৬ সালের ৪১.৫ শতাংশ থেকে ২১.৮ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ। বিগত দশ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি’র আকার প্রায় ৫ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ৮২ হাজার কোটি থেকে প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে ৩১তম। এইচ.বি.এস.সি’র প্রক্ষেপণ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হবে।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাজেটের আকার ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাজেটের পরিমাণ প্রায় ৭.৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ১০.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

প্রিয় দেশবাসী,
বাংলাদেশ ভূখণ্ডের যা কিছু মহৎ অর্জন ও প্রাপ্তি, সবকিছু অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভিষিক্ত করা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রাম, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা অর্জন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচার উৎখাত এবং ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার আগে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন।

শূন্য কোষাগার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্ধ কলকারখানা নিয়ে জাতির পিতা পথচলা শুরু করেছিলেন। এক কোটি শরণার্থীকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা ছিল এক দুরূহ কাজ। তার উপর শুরু হয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। এসব প্রতিবন্ধকতা এবং ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশকে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছিলেন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হয়েছিল। আর তখনই দেশের অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। তাঁর হত্যার পর ১৯৭৫ পরবর্তী শাসকেরা বাংলাদেশকে পর-নির্ভরশীল, ভিক্ষুকের দেশে পরিণত করেছিল।

১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল। এ সময়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি ছিল বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে। বাংলাদেশ মানেই ছিল বন্যা, খরা, জলোচ্ছাস, কঙ্কালসার মানুষের দেশ।

একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে ১২ই জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। একুশ বছর পর আবার বাংলাদেশের মানুষ মুক্তির স্বাদ পায়, জনগণের সরকার পায়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল। এই ৫ বছর ছিল বাংলাদেশের মানুষের জন্য স্বর্ণযুগ। আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। এ সময় আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি এবং ভারতের সঙ্গে ৩০-বছর মেয়াদী গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি স্বাক্ষর করি। যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করি এবং খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণতা অর্জন করি।

এছাড়া, কৃষকদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করি। দুস্থ-অসহায় মানুষের জন্য দুস্থ ভাতা, স্বামী-পরিত্যক্তা ও বিধবা মহিলাদের জন্য ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বয়স্কদের জন্য শান্তি নিবাস, আশ্রয়হীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ইত্যাদি কর্মসূচি চালু করি।

২০০১ সালের ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা হয়। ২০০১-পরবর্তী ৫ বছর ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এ দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এক বিভিষীকাময় সময়। হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ।
সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার, খুলনার এডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম, নাটোরের মমতাজ উদ্দিনসহ ২১ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়। হাওয়া ভবন তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট এবং বিদেশে পাচার করা হয়। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা-ভাই, জেএমবি, হরকাতুল জিহাদসহ নানা জঙ্গিগোষ্ঠি সৃষ্টি করা হয়।

যশোরে উদীচির অনুষ্ঠান, রমনার বটমূলে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিস এবং পল্টনে সিপিবি’র সভায় বোমা হামলা, সিলেটে ব্রিটিশ হামকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বোমা হামলা করে হত্যা চেষ্টা, ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট সারাদেশে প্রায় ৫শো স্থানে একযোগে বোমা হামলা, একই বছর গাজীপুরে বার ভবনে বোমা মেরে ১০ জন হত্যা, শরীয়তপুরে দুই বিচারক হত্যাসহ সারাদেশে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে এসব জঙ্গি গোষ্ঠি।

২০০৪ সালের ২১-এ আগস্ট বিএনপি-জামাত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আওয়ামী লীগের র‌্যালিতে নৃশংস গ্রেনেড হামলা চালোনো হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রাণে রক্ষা পেলেও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিরীহ মানুষ নিহত হয় এবং ৫০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়। আহতদের অনেকেই এখনও শরীরে অসংখ্য স্প্রিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় জীবনযাপন করছেন।

প্রিয় দেশবাসী,
একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা আবারও ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শ্লোগান সংবলিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহার নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

আমরা আমাদের ইশতেহার এমনভাবে তৈরি করেছি যাতে আমরা তা বাস্তবায়ন করতে পারি। একইসঙ্গে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনাগুলোর ধারাবাহিকতা ২০১৮-এর নির্বাচনি ইশতেহারেও রক্ষিত হয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি ইশতেহার পুস্তিকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে এই স্বল্প সময়ে তা সবিস্তারে তুলে ধরা সম্ভব নয়। আমি সংক্ষিপ্তাকারে কয়েকটি বিষয়গুলো আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

৩.১ গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ
বিগত দশ বছরে জাতীয় সংসদই ছিল সকল রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের চলমান প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করব।
সংসদকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, গণমাধ্যম, বিচারবিভাগকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

৩.২ আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারক নিয়োগের পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের জন্য যৌক্তিক বেতন কাঠামো ও সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ, গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা, বিরোধ নিরসনে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহার, প্রতি জেলায় লিগ্যাল এইড স্থাপনসহ বিচারকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে।

আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের বিচার, জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১-এ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার করেছি এবং গ্রেফতারকৃত দণ্ডিতদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়েছে।
নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে প্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য সহায়তা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা হবে।
সর্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবাধিকার লক্সঘনের যে কোন প্রচেষ্টা প্রতিহত করা করা হবে। মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

৩.৩ দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন
প্রশাসনের সর্বস্তরে ই-গভর্নেন্স চালু করা হয়েছে এবং জনসেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘তথ্য অধিকার আইন-২০০৯’ কার্যকর করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সম্মানজনকভাবে জীবনধারণের জন্য বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়-পরায়ণতা এবং জনসেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।

৩.৪ জনবান্ধব আইন-শৃক্সখলা বাহিনী গড়ে তোলা
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১০ বছরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, পিবিআই, ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন, রংপুর রেঞ্জ, রংপুর আরআরএফ, ময়মনসিংহ রেঞ্জ, ২টি র‌্যাব ব্যাটালিয়ন, সাইবার পুলিশ এবং গাজীপুর ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ, এন্টি টেররিজম ইউনিট এবং কাউন্টার টেররিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেলে আগামী ৫ বছরে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীতে জনবল নিয়োগ করা হবে।

৩.৫ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে।

৩.৬ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল
জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি আমাদের দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হবে

৩.৭ স্থানীয় সরকার: জনগণের ক্ষমতায়ন
ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে অধিকতর আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করা হবে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত ও প্রসারিত করার জন্য সরকারের সাহায্য ও উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। নগর ও শহরে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।

৩.৮ সামষ্টিক অর্থনীতি: উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
আগামী ৫ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ৫ হাজার ৪৭৯ ডলারেরও বেশি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশে^র বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়।

৩.৯ অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প (মেগা প্রজেক্ট)
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত ১০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে: পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, মহেষখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্র বন্দর, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং চট্রগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপন।

আওয়ামী লীগ এসব মেগা প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে দৃঢ়সঙ্কল্প। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পায়রা বন্দরের পরিপূর্ণ উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

৩.১০ ‘আমার গ্রাম – আমার শহর’: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ
আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করব। শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দিব। আগামী ৫ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে। পাকা সড়কের মাধ্যমে সকল গ্রামকে জেলা/উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।
ছেলেমেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। কর্মসংস্থানের জন্য জেলা/উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। ইন্টারনেট/তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে যাবে।

৩.১১ তরুণ যুবসমাজ: ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’
‘সোনার বাংলা’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধানতম শক্তি হচ্ছে যুবশক্তি। দেশের এই যুবগোষ্ঠিকে সুসংগঠিত, সুশৃক্সখল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা হবে। প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা হবে। জাতীয় পর্যায়ে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের তথ্য সম্বলিত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেইজ তৈরি করা হবে। তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক এর মাধ্যমে বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা ইতোমধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হবে।

তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় গড়ে তোলা হবে একটি করে ‘যুব বিনোদন কেন্দ্র’। প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘যুব স্পোর্টস কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা আগামী ৫ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসৃজনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। প্রতি উপজেলা থেকে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার যুব/যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

৩.১২ নারীর ক্ষমতায়ন
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ’ এবং রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। নারীর প্রতি সকল বৈষম্যমূলক আচরণ/প্রথা বিলোপ করা হবে। বাল্যবিবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আলাদা ব্যাংকিং ও ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

৩.১৩ দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস
বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় ৪ কোটি ৯২ লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। আগামি ৫ বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে এবং সকলের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। দারিদ্র্যের হার ১২.৩ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।
প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের নিয়মিত রোজগার নিশ্চিত করা হবে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত থাকবে। সহজ শর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আয়বর্ধকমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে।

৩.১৪ কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি: খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে নিশ্চয়তা
বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের অভূতপূর্ব সাফল্য বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সফল ধারা অব্যাহত রাখা হবে। কৃষি উপকরণের উপর ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হবে। কৃষি যন্ত্রপাতি সুলভ ও সহজপ্রাপ্য করা হবে। কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হবে। ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্যের দক্ষ সাপ্লাই চেন/ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হবে। কৃষি গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে।

ছোট ও মাঝারি আকারের দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা এবং মৎস্য চাষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনমত ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে।

৩.১৫ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি
২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট আর দৈনিক সরবরাহ ছিল ৩২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ৫,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হবে।

৩.১৬ শিল্প উন্নয়ন
কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা শ্রমঘন ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প উন্নয়নে জোর দিয়ে যাচ্ছি। সারাদেশে ১০০টি সরকারি ও বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এ পর্যন্ত ৮৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এবং ১৪টির কাজ এগিয়ে চলছে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো আনুমানিক অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করবে এবং প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে আর্থিক প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হবে। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইটি শিল্প পার্ক স্থাপন করা হবে এবং এসব শিল্প পার্কে আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

৩.১৭ শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমনীতি
৪৩টি শিল্প খাতের মধ্যে ৪০টি খাতের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০০৮ সালের ১৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শিল্প শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা হবে। নারী শ্রমিকদের জন্য ৪ মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বাস্তবায়ন করা হবে। শ্রমিকদের স্বস্থ্যসেবা, বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। শ্রমিক, হতদরিদ্র এবং গ্রামীণ ভ‚মিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য রেশনিং প্রথা চালু করা হবে।

৩.১৮ শিক্ষা
আমরা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য যুগোপযোগী শিক্ষা নীতি প্রণয়ন করেছি। ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সর্বমোট ২৬০ কোটি ৮৫ লক্ষ ৯১ হাজার বই বিতরণ করা হয়েছে।
প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় এ ধরনের ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সকল গ্রামে, আধা মফস্বল শহরে এবং শহরের নিম্নবিত্তের স্কুলসমূহে পর্যায়ক্রমে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যর্পূণ করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসার দাওয়ারে হাদিস ডিগ্রিকে মাস্টার্স-এর সম-মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষাখাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়ে গেছে, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসন করা হবে।

৩.১৯ স্বস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ
বর্তমানে সারাদেশে ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামীণ জনগণকে স্বস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ঔষধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু এখন ২০০৯ সালের ৬৬.৮ বছর হতে ৭২.৮ বছরে উন্নীত হয়েছে।

১ বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের উপরে সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

সকল বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ভবনসহ সকল সুবিধা পর্যায়ক্রমে আধুনিকীকরণ করা হবে।

৩.২০ যোগাযোগ
বিগত ১০ বছরে যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। এ সময়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুত, সম্প্রসারণ, সংস্কার বা কার্পেটিং করেছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ, নবীনগর-চন্দ্রাসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৪২০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক চারলেন বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হয়েছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ করা হয়েছে। ৯১৪টি সেতু, ৩ হাজার ৯৭৭টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫২ হাজার ২৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হয়। এছাড়া, ৭৫ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৩১ হাজার ৬৩৭ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ বা পুনর্বাসন করা হয়। ৩ লাখ ১ হাজার ৩৪১ মিটার ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করা হয়।

ঢাকা মহানগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় মেট্রোরেল বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত অংশ পরের বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। তৃতীয় পর্যায়ে পল্লবী থেকে উত্তরা পর্যন্ত ৪.৭ কিলোমিটার অংশ চালু হবে ২০২২ সালে।

হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে নারায়ণগঞ্জের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ চার-লেন বিশিষ্ট প্রথম ঢাকা এলিভেটড এক্সপ্রেসওয়ে তিনটি পর্বে নির্মিত হচ্ছে।

বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি এলিভেটেড এক্সপ্র্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নামে সাভারের হেমায়েতপুর হতে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা হবে। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করা হবে।

আগামী ৫ বছরে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে।

ঢাকার চারপাশের ৪টি নদী-খালগুলোকে খননের মাধ্যমে নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হবে।

একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা হবে। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা হবে। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরপত্তার জন্য আন্ডারপাস/ওভারপাস র্নিমাণ করা হবে। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে।

৩.২১ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৫ হাজার ৭৩৭টি ডিজিটাল সেন্টার এবং ৮ হাজার ২০০টি ই-পোস্ট অফিসের মাধ্যমে জনগণকে ২০০ ধরনের ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের যুগে।

জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা ২০২১-২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চালু করব। ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের মূল্য যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা হবে।

৩.২২ সমুদ্র বিজয়: ব্লু-ইকোনমি- উন্নয়নের দিগন্ত উন্মোচন
মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমার বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সামুদ্রিক পর্যটন শিল্প ইত্যাদি খাতে কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দায়িত্ব পেলে সমুদ্র সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করব।

৩.২৩ জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা
২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশলপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করি এবং এর আওতায় ১৪৫টি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে’ বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। উৎপাদনশীল বনের আয়তন ২০১৫ সালের ১৩.১৪ শতাংশ হতে ২০ শতাংশে উন্নীতকরণ করা হবে।

৩.২৪ শিশু কল্যাণ
আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিশুশ্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা সুদৃঢ় সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বস্থ্য, শিক্ষা, বৃত্তি ও নানাবিধ কর্মকাণ্ড উন্নত ও প্রসারিত করা হবে। পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশুসদন প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা উন্নত ও প্রসারিত করা হবে।

৩.২৫ প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ কল্যাণ
প্রতিবন্ধী সকল শিশুর সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা, যোগাযোগ, চিকিৎসা সহজ করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবীণদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রম গ্রহণ, প্রবীণদের বিষয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩.২৬ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন
মুক্তিযোদ্ধাদের বার্ধক্যকালীন ভরণ-পোষণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ষাট ও তদূর্ধ্ব বয়সের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রেল, বাস ও লঞ্চে বিনামূল্যে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

দেশের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা, ইতিহাস বিকৃতি রোধ এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভ‚মি ও গণকবর চিহ্নিতকরণ, শহিদদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।

৩.২৭ ধর্ম ও সংস্কৃতি
সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করা হবে। ধর্ম যাঁর যাঁর, উৎসব সবার- এই নীতি সমুন্নত রাখা হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশের সমাজ গড়ে তোলা হবে।
কোরান-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করা হবে না। সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ-কাম-ইসলামী কালচারাল সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে।
বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসৃত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, চারু ও কারুকলা, সঙ্গীত, যাত্রা, নাটক, চলচ্চিত্র এবং সৃজনশীল প্রকাশনাসহ শিল্পের সব শাখার ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধন ও চর্চার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হবে।

৩.২৮ ক্রীড়া
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানকে আরও সৃদৃঢ় করার পাশাপাশি ফুটবল, হকিসহ অন্যান্য খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ সুবিধার সম্প্রসারণে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে।

৩.২৯ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায়
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যেসব ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমিতে প্রকৃত ¯^ত্বাধিকারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও ব্যবস্থার অবসান করা হবে।

৩.৩০ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ
মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অনাকাংখিত গুজব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতাসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা ও সংবাদ মাধ্যম উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চায় সাংবাদিকদের উৎসাহ প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গণমাধ্যম-বান্ধব আইন করা হবে। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে কোন আইনের অপপ্রয়োগ হবে না।

৩.৩১ প্রতিরক্ষা: নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা সুরক্ষা
আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে আধুনিক সমরাস্ত্র, যানবাহন এবং প্রযুক্তির সম্মিলন ঘটানো ছাড়াও সেনাসদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিলেট, রামু (কক্সবাজার) ও বরিশালে তিনটি ক্যান্টনম্যন্ট প্রতিষ্ঠা, তিনটি পদাতিক ডিভিশন ও পদ্মাসেতু কম্পোজিট ব্রিগেডসহ বহু ইউনিট গঠন করা হয়েছে।

আমরা নির্বাচিত হলে সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার যে নীতি গ্রহণ করেছি তা অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আধুনিকায়নের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

৩.৩২ পররাষ্ট্র
বিগত দশ বছরে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়েছে। ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’- বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত এই নীতির আলোকে আমরা আমাদের পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করছি।
আমরা মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করেছি। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর ৬৮ বছরের বন্দীত্ব জীবনের অবসান হয়েছে।

আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে ভারতের সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ সকলক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহাযোগিতা বৃদ্ধি করা হবে।

বাংলাদেশের ভূখণ্ডে জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কোন শক্তিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার নীতি অব্যাহত থাকবে।

গত বছর মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। আমরা মানবিক কারণে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। বাংলাদেশের এই মানবিক সিদ্ধান্ত বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দ্বিপাক্ষিকভাবে আলোচনা ছাড়াও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

৩.৩৩ এনজিও
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বশাসিতভাবে তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক পরিচালিত হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান/বিভাগ স্থানীয় সরকারের সাথে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছামূলক সমন্বয় জোরদার করা হবে।

৪. এমডিজি অর্জন এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন) বাস্তবায়ন কৌশল (২০১৬-২০৩০)
দারিদ্র ও ক্ষুধা নির্মুল, নারী-পুরুষ সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস এবং মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন-এই চারটি এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ বিশেষ সাফল্য অর্জন করে প্রশংসিত হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা হবে।

৫. ব-দ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০
জলবায়ুর ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে কাংখিত উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জন্য ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শতবর্ষের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনাটি ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের মর্যাদা অর্জন করতে সহায়ক হবে। বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সাল নাগাদ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাসমূহের সমন্বয়ের যোগসূত্র সৃষ্টি করবে।

প্রিয় দেশবাসী,
আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। আমাদের এবারের অঙ্গীকার আমরা টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তভর্‚ক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।

এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণ কিছু পায়। সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।

মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার বা আমার সহকর্মীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকতে পারে। আমি নিজের এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমি কথা দিচ্ছি, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আরও সুন্দর ভবিষ্যত নির্মাণ করব। জাতির পিতার কাঙ্ক্ষিত ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

প্রিয় দেশবাসী,
আমার ব্যক্তিগত কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। বাবা-মা-ভাই, আত্মীয়-পরিজনকে হারিয়ে আমি রাজনীতি করছি শুধু জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তাবায়নের জন্য; এ দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য।

এদেশের সাধারণ মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারেন, উন্নত-সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হতে পারেন – তা বাস্তবায়ন করাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।

আগামী ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী আমরা সাড়ম্বরে পালন করব। বাঙালি জাতির এই দুই মাহেন্দ্রক্ষণ সামনে রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগই পারবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে। স্বাধীনতা-বিরোধী কোন শক্তি এ সময় রাষ্ট্র-ক্ষমতায় থাকলে তা হবে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গ্লানিকর।

তাই দেশবাসীর প্রতি আকুল আবেদন, আগামী ৩০ তারিখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করুন। আপনারা নৌকায় ভোট দিন, আমরা আপনাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দিব।

সাতচল্লিশ বছর আগে ১৯৭১ সালে ৯-মাসের সশস্ত্র-রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখে বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বাঙালি জাতি এবার স্বাধীনতার প্রতীক নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনবে- এ বিশ্বাস আমার আছে। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ।

সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন: http://manifesto2018.albd.org/files/Manifesto-2018_Presentation.pdf
 
Copyright © Geek Bangladesh. Designed by OddThemes