বাংলাদেশ

রাজনীতি

টেকনোলজী

Latest Updates

বন্ধ্যা বলে একঘরে করেছিল সমাজ, আট হাজার সন্তানের মা হয়ে পদ্মশ্রী পেলেন সেই থিম্মাক্কা!

January 29, 2019



এ দেশের নারীদের কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, এই বাক্য এখনও হরহামেশা শুনতে পাওয়া যায়। একটু রক্ষণশীল পরিবারের অন্দরে কান পাতলেই ফিসফিস করে সন্তানধারণের চূড়ান্ত নিদান। আর এই ধরনের রক্ষণশীলতা যদি একটি-দু’টি পরিবারের নয়, গোটা সমাজের হয়, তা হলে যে তা সমাজেরই মারাত্মক অসুখ ডেকে আনবে, তাতে আর আশ্চর্য কী! এই অসুখেরই শিকার হয়েছিলেন কর্নাটকের থিম্মাক্কা। পুত্র বা কন্যা দূরের কথা, বিয়ের ২৫ বছর পরেও কোনও সন্তানই হয়নি তাঁর। সেই ‘অপরাধে’ তাঁকে একঘরে করে দেয় সমাজ। কিন্তু দমে যাননি থিম্মাক্কা। এই সামাজিক সংকীর্ণতা ভেঙে খানখান করে, মা হয়ে উঠেছেন আট হাজার সন্তানের! আর সেই সন্তানস্নেহই তাঁকে এনে দিল পদ্মশ্রী পুরস্কার!

গর্ভধারণ করতে না পারলে নাকি নারী পূর্ণতা পান না– এই প্রতলিত ধারণার কোপে পড়ে জীবনটা শেষ হতে বসেছিল কর্নাটকের গুব্বি তালুকের বাসিন্দা বেকাল চিক্কাইয়া এবং তাঁর স্ত্রী থিম্মাক্কার। থিম্মাক্কার উপরেই সমাজের রোষ ছিল বেশি। বন্ধ্যা নারীর স্থান নেই, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সেই গ্রাম্য এলাকায়!



থিম্মাক্কার তেমন পড়াশোনা ছিল না। নিজস্ব জমিজায়গাও ছিল না তাঁর স্বামী চিক্কাইয়ার। তাই গ্রামের আর পাঁচটা গরিব পরিবারের মতোই শ্রমিক হিসেবে কাজ করে রুটিরুজি চালাতেন তাঁরা। কিন্তু সমাজের দুর্ব্যবহারের মাত্রা যেন ক্রমেই বাড়ছিল। শুধু একঘরে করে রাখাই নয়, কাজের জায়গাতেও কারণে অকারণে আক্রমণ ও ব্যঙ্গের মুখে পড়তেন থিম্মাক্কা ও চিক্কাইয়া।

হঠাৎই এক দিন ঠিক করেন, এর জবাব দিতে হবে। এই অহেতুক অপমান সারা জীবন সওয়া যায় না। বন্ধ করতে হবে সকলের মুখ। সমাজের বিরুদ্ধে যেন প্রতিশোধস্পৃহা জেগে ওঠে থিম্মাক্কার। তবে সে প্রতিশোধ ক্ষতিকারক নয়, বরং বেশ ইতিবাচক।


থিম্মাক্কা ঠিক করেন, সন্তান নেই তো কী হয়েছে, তিনি গাছ লাগাবেন। আর তাদেরই বড় করবেন সন্তানসম স্নেহে। দেখিয়ে দেবেন, মাতৃত্ব মানে কেবল শরীর দিয়ে জন্ম দেওয়া একটা মানবসন্তান নয়।

যেমন ভাবা, তেমনই কাজ। সে আজ থেকে প্রায় ছ’দশক আগের কথা। প্রথম বছরে ১০টি বট গাছ লাগালেন থিম্মাক্কা। বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরে, একটি খালি জায়গায় গিয়ে গাছগুলি লাগালেন তিনি। পরের বছরে সংখ্যাটা হল ১৫, তার পরের বছরে ২০। তিন বছরের মাথায় ৪৫টি সন্তান নিয়ে ভরা সংসার হল থিম্মাক্কার।



এক সময় এই সন্তানদের দেখাশোনার জন্য দিনমজুরির কাজও ছেড়ে দেন চিক্কাইয়া। তিনি গাছেদের সঙ্গেই থাকতেন। আর থিম্মাক্কা মজুরের কাজ করে রোজগার করতেন, আর বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে সন্তানদের দেখভাল করতেন। রোজ চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে গাছগুলিতে জল দিয়ে আসতেন তাঁরা। গবাদি পশুর হাত থেকে চারাগাছগুলিকে বাঁচাতে কাঁটাতারের বেড়াও বানিয়ে দেন দু’জনে মিলে।


থিম্মাক্কার নিজের গ্রাম হুলিকাল থেকে কুদুর অবধি মোট ২৮৪টি বটগাছের চারা লাগিয়ে বড় করেছেন তিনি। প্রায় চার কিলোমিটার পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা ছায়াময় সুবিশাল গাছগুলি থিম্মাক্কার ভালোবাসারই নিদর্শন, বলেন পথচারীরাও।

১৯৯১ সালে মারা যান চিক্কাইয়া। তার পরেও একলা লড়াই চালিয়ে গেলেন থিম্মাক্কা। একাই রইলেন গাছ-সন্তানদের পরিচর্যায়। একঘরে, একলা হয়ে যাওয়া থিম্মাক্কার মনের জোর কিন্তু এতটুকু টাল খায়নি। এক সময়ে থিম্মাক্কার কাজের প্রতি সম্মান দেখিয়ে, গ্রামবাসীরাই তাঁকে ‘সালুমারাদা’, বলে ডাকতে শুরু করেন। কন্নড় ভাষায় সালুমারাদা শব্দের অর্থ, ‘গাছেদের সারি। তাঁকে একঘরে করে রাখা গ্রামবাসীরাই হঠাৎ বুঝতে পারেন, সন্তানের জন্ম দিতে না পারলেও, নিঃশব্দে অনেক বড় এক ধারণার জন্ম দিয়েছেন থিম্মাক্কা।
স্থানীয়দের মাধ্যমেই তাঁর কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ১৯৯৬ সালে ‘জাতীয় নাগরিক সম্মান’ পান তিনি। তার পরে তাঁর কথা জানতে পারে গোটা দেশ। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থাও এগিয়ে আসে তাঁকে সাহায্য করতে। বর্তমানে থিম্মাক্কার গাছগুলির দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে কর্নাটক সরকার নিজেই।

থিম্মাক্কা বলেছিলেন, নিজের সন্তানদের নিজে প্রতিপালন করতে পারলেই তিনি খুশি হতেন। কারণ কখনওই কারও সাহায্য চাননি তিনি।



১০৬ বছর বয়সি এই বৃক্ষমাতার কোলে এখন প্রায় আট হাজার সন্তান বড় হচ্ছে। তাদের জন্যই এ বার পদ্মশ্রী সম্মানের পালক জুড়ল থিম্মাক্কার মুকুটে। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নের কারণেই পদ্মশ্রী পেলেন তিনি।

* The Wall অবলম্বনে 

বান্দরবানে অবৈধ প্রবেশকারী মিয়ানমারের এক সেনা সদস্য আটক

January 25, 2019


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ভাল্লুকখাইয়া সীমান্ত থেকে অং বো থিন নামে মিয়ানমারের এক সেনা সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

 উপজেলার ভাল্লুকখাইয়ের ৪৯নং সীমান্ত পিলার এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই সেনা সদস্যকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশের অপরাধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর একজন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। মিয়ানমারের ওই সেনার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের কারণ কী তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, বিকেলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির গহীন পাহাড়ি এলাকায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত একজনের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন। বিজিবির জিজ্ঞাসাবাদে আটক হওয়া মিয়ানমারের ওই সেনা জানান, তার নাম অং বো থিন। তিনি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এলআইবি ২৮৭ ব্যাটালিয়নের সদস্য।

বিজিবি’র রামু সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল এস এম বায়েজিদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ ঢাকসু নির্বাচন

January 23, 2019

২৮ বছরের বেশি সময় পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী ১১ই মার্চ ডাকসু কেন্দ্রীয় সংসদ এবং হল সংসদগুলোর নির্বাচন এক যোগে অনুষ্ঠিত হবে।

সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলবে।

১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, অর্থাৎ যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তাতে ডাকসুর সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সে ক্ষমতাবলে নির্বাচনের দিন ঠিক করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ১৬ই সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছিল ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ডাকসুর নির্বাচন।

আরো পড়ুন: ডাকসু নির্বাচন কি আসলেই করতে চায় কর্তৃপক্ষ?

ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশ কতোটা আছে ক্যাম্পাসে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে ঘোষণা দিয়েছিল উচ্চ আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে। ঐ রায়ে ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ ছিল।

সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে। স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মোট সাতবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ডাকসু নির্বাচন।

তবে ডাকসু নির্বাচনের জন্য সব ছাত্র সংগঠনের ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে সহাবস্থানকে সবচেয়ে বড় পূর্বশর্ত বলে মনে করা হয়।

অধ্যাপক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান দাবি করেছেন, সব ছাত্র সংগঠনের শিক্ষার্থীরাই হলে থাকতে পারছে এবং বাধা ছাড়াই ক্লাস করতে পারছে।

তবে, কেউ যদি বাধার মুখে পড়ে, অভিযোগ জানালে সেটা সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।

তিনি জানিয়েছেন ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৭ই জানুয়ারি প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সহায়তার জন্য পাঁচজন অধ্যাপককে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদও গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপাচার্য। ইতিমধ্যেই গঠন করা হয়েছে একটি 'আচরণবিধি কমিটি'।


আর সিমকার্ড চালু হবে না অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট এ

January 22, 2019

এখন থেকে আর নতুন কোনো অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেটে কোনো মোবাইল ফোন অপারেটরের সিমকার্ড চালু হবে না। শুধু ঘোষণা দিয়ে সরকারি কর পরিশোধের পর যে সেট বাজারে আসবে সেটাতেই চালু হবে সিম। তবে বর্তমানে গ্রাহকের হাতে থাকা অবৈধ সেটে যে সিমকার্ড চলছে, সেটা দিয়ে তিনি চালাতে পারবেন। এই সেটে অন্য কোনো নতুন বা পুরাতন সিম আর চলবে না। বৈধ সেটে যে কোনো সিম চালানো যাবে।

আজ মঙ্গলবার বিটিআরসিতে আইএমইআই ডাটাবেজের উদ্বোধন করার পর থেকেই এই ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে।

প্রত্যেকটি মোবাইল ফোন সেটেই ১৫ ডিজিটের একটি আইএমইআই নম্বর থাকে। গ্রাহক *#০৬# ডায়াল করলেই এই আইএমইআই নম্বর ভেসে উঠে। এই নম্বরটি ১৬০০২ নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে জানা যাবে সেটটি বৈধ না অবৈধ।

বর্তমানে গ্রাহকের হাতে থাকা সবগুলো সেটই ডাটাবেজে উঠে গেছে। মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছ থেকে প্রত্যেক গ্রাহকের তথ্য নিয়ে ডাটাবেজে ঢোকানো হয়েছে। এই ডাটাবেজটি মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন তৈরি করলেও এটা নিয়ন্ত্রণ করবে বিটিআরসি। ইতোমধ্যে বিটিআরসিতে ডাটাবেজ বসানো হয়েছে। এটা হালনাগাদও সম্পন্ন হয়েছে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ করছে। এখন প্রত্যেকটি ডিভাইস নিরাপদ করার দায়িত্বও সরকারের। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইএমইআই ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এখন যে কোনো গ্রাহক তার মোবাইল ফোন সেট নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবেন। কেউ চুরি করে সেটটি নিয়ে গেলে তিনি আর ব্যবহার করতে পারবেন না। গ্রাহকের তথ্যের ভিত্তিতে বিটিআরসি ওই সেটের আইএমইআই নম্বর সার্ভার থেকে বাদ দিয়ে দেবে। ফলে ওই সেটে নতুন কোনো সিম আর সচল হবে না। এতে ব্যক্তির নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সরকার অবৈধ সেট থেকে যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বঞ্চিত হতো এখন সেটা হবে না।’

কিভাবে আইএমইআই ডাটাবেজে মোবাইল সেট অন্তর্ভুক্ত হবে? জানতে চাইলে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেগুলো বৈধভাবে আমদানি হবে সেগুলো আপনাআপনি ডাটাবেজে উঠে যাবে। কেউ যদি দেশের বাইরে বেড়াতে গিয়ে সেট নিয়ে আসেন তাহলে তাকে বিটিআরসিকে জানিয়ে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করে নিতে হবে। অন্যথায় সেটটিতে কোনো সিমকার্ড চালু হবে না। একজন ব্যক্তি বছরে সর্বোচ্চ দু’টি সেট বিদেশ থেকে সঙ্গে এনে ডাটাবেজে ঢোকাতে পারবেন। কোনো গ্রাহক নতুন কোনো সেট কিনতে গেলে তিনি বক্সের গায়ে লেখা আইএমইআই নম্বরটি ১৬০০২ নম্বরে এসএমএস পাঠালেই সঙ্গে সঙ্গে ফিরতি মেসেজেই জেনে যাবেন সেটটি বৈধভাবে আমদানি করা কি-না। এরপর তিনি কিনবেন।

হ্যান্ডসেটের চুরি-ছিনতাই একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইএমইআই নিবন্ধন চালু হলে সিমের সঙ্গে আইএমইআই-এর নিবন্ধনে যুক্ত হয়ে যাবে। আর আগে যেহেতু জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিম নিবন্ধন হয়েছে তখন আইএমইআই, সিম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র তিনটি দিয়ে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে। এটা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে হ্যান্ডসেটের চুরি-ছিনতাই একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। সর্বোপরি মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবসায় শৃংঙ্খলা ফিরে আসবে।

ইমপোর্টার্স এসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০১৭ সালে বৈধ হ্যান্ডসেট আমদানি হয়েছে সাড়ে ৩ কোটি পিস। আর ২০১৮ সালে এটা নেমে এসেছে ৩ কোটি পিসে। তারা বলছেন, বাকি সেট অবৈধ মার্কেটে চলে গেছে। বছরে অন্তত এক কোটি হ্যান্ডসেট অবৈধ পথে বাজারে আসছে। গেল বছর যেটির পরিমাণ ছিল দেড় কোটির মতো। এই সেটগুলো থেকে সরকার কোনো ট্যাক্স পায় না।

এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময় সকল কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর

January 20, 2019
দিপু মণি । ছবিঃ UNB

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কারণে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
এসময় কেউ কোচিং সেন্টার খোলা রাখলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 
মূলত প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এই উদ্যোগ, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা । 

মাত্র ৫৪ মিনিটে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম

January 20, 2019

বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথ প্রায় ৩২১ কিলোমিটার। দেশের অনেক জেলা উপজেলা ঘুরে চট্টগ্রামে যেতে তাই দীর্ঘ সময় লাগে। তাই সংক্ষিপ্ত পথে এই রুটে রেলপথ করার পরিকল্পনা করছে সরকার। জানা গেছে, ২৩৩ কিলোমিটার হবে নতুন রেল রুট। আর হাইস্পিড রেলের মাধ্যমে মাত্র ৫৪ মিনিটেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়া যাবে।
সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাইস্পিড ট্রেনটির গতি হবে সর্বোচ্চ প্রতি ঘন্টায় ৩০০ কিলোমিটার। আগামী বছর নির্মাণ শুরু করলে ২০২৫ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে হাইস্পিড ট্রেন চালু করা যাবে।

প্রতিবেদনে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইস্পিড রেলপথের জন্য চারটি সম্ভাব্য রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো-

১. ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম

২. ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, লাকসাম, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম

৩. ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম

৪. ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ, লাকসাম, ফেনী হয়ে চট্টগ্রাম।
চারটি রুটের ক্ষেত্রেই বিরতিহীনভাবে যেতে সময় লাগবে যথাক্রমে ৫৬, ৫৭, ৫৫ ও ৫৪ মিনিট। আর প্রতি স্টেশনে দুই মিনিট করে বিরতি দিলে প্রস্তাবিত চার রুটে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডরে যাতায়াতে সময় লাগবে যথাক্রমে ৭০, ৭৬, ৬৯ ও ৬৮ মিনিট।

তবে রুট হিসেবে প্রথম দুটিকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এদিকে, ভূমি দিয়ে রেলপথ নির্মাণে জমির বাড়তি ব্যবহার ও রেল চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে গতি সীমিত হয়ে পড়তে পারে এমন শঙ্কায় রেলপথটি উড়ালপথে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নোয়াখালীতে আবারো গণধর্ষনের অভিযোগ

January 20, 2019

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গণধর্ষণের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে জেলার কবিরহাট উপজেলায় একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন এক নারী। তিন সন্তানের জননী এক নারী (২৯) পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার রাতে তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তিন সন্তানসহ তাঁকে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন। এরপর তাঁরা পালিয়ে যান।

পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে জাকের হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।


ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই নারীর তথ্যের বরাতে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মো. হাছান আজ শনিবার বেলা একটায় প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর ১২টার দিকে এক নারী থানায় এসে অভিযোগ করেন, গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে একই এলাকার জাকের হোসেনসহ তিন ব্যক্তি তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, ওই নারীর তথ্যমতে, তাঁর স্বামী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন নোয়াখালী কারাগারে বন্দী। বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ওই ব্যক্তিরা ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। এর মধ্যে তিনি জাকের হোসেন নামের একজনকে চিনতে পেরেছেন। ধর্ষণের অভিযোগ করা নারীর স্বামী কোন মামলায় কারাগারে, তা তাৎক্ষণিক নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি হাছান।

ওসি মির্জা হাছান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাকের হোসেনকে (২৮) আটক করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ধর্ষণের অভিযোগ করা ওই নারীকে আজ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন মির্জা হাছান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী রাতেই আশপাশের লোকজনকে ঘটনাটি জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনের নাম বলেন। পরে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে ঘটনার বর্ণনা করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের রাতে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে সুবর্ণচরের এক নারীকে মারধর ও ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ৩১ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই দিন তাঁর স্বামী বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে চরজব্বার থানায় মামলা করেন। এর মধ্যে এজাহারে নাম থাকা ছয়জন এবং বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ছেড়ে যান ওই নারী।

ধর্ষণের শিকার সুবর্ণচরের ওই নারী অভিযোগ করেন, ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই দিনই রাতে তাঁর স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়।

* প্রথম আলো অবলম্বনে

 
Copyright © Geek Bangladesh. Designed by OddThemes