পটুয়াখালী-১ আসনে জাপা-আওয়ামীলীগ ঠাণ্ডা লড়াই!

গতকাল পটুয়াখালী শহরে পটুয়াখালী-১ আসনের বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল হয়েছে। সেখানে হাজার খানেক মানুষ জড়ো হয়েছিলো এ সময় তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়, বাঙ্গ করে স্লোগান দেয়া হয়। সাধারণ জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হলেও, রুহুল আমিনের দাবী ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত এবং একটা মহল উদ্দেশ্য প্রণীত ভাবে এই কাজতিতে মদদ দিচ্ছে কিন্তু তিনি কোন বাক্তি বা সংগঠনের নাম উল্লেখ করেননি

সম্প্রতি রুহুল আমিনের নামের অনেক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, তিনি মহাজোটের সরকারে থাকাকালীন বিগত ১০ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়েছেন করে আলোচনায় এসেছে, এছাড়াও আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দেয়াকে কেন্দ্র করে তিনি নেতাদের নিকট থেকে কোটি টাকা নিচ্ছেন বলেও শোনা গেছে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলেও জানিয়েছেন তিনি

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের পুরোনো রেজিস্ট্রি পুল এলাকা থেকে কয়েক শ নারী-পুরুষ ঝাড়ু হাতে নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে বেরিয়ে আসে এ সময় মিছিল থেকে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁরা রুহুল আমিনকে পটুয়াখালী-১ আসন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার স্লোগান দিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করেন। মিছিলের সামনে ব্যানারে লেখা ছিল, বাকেরগঞ্জের রুহুল আমিন বাকেরগঞ্জ ফিরে যা’। পরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে রুহুল আমিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে আওয়ামী লীগ এই আসনটি ছেড়ে দেয়। পরে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পটুয়াখালী সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসনের সাংসদ রুহুল আমিন হাওলাদার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় পার্টির দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন।

ধারণা করা যাচ্ছে এই আসনটিকে কেন্দ্র করেই এই এলাকাতে আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টির মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই চলছে পটুয়াখালীর এই আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহজাহান মিয়াকে। অপরদিকে জাতীয় পার্টিও এ আসনটি চায়। এ নিয়ে এলাকায় দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা চলছে।


তবে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর বলেন, তাঁরা ঘটনার সময় মনোনয়নপত্র দাখিল করতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। পরে তাঁরা এ কর্মসূচির বিষয়ে জানতে পারেন। আওয়ামী লীগের কেউ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এবং এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলেও জানান। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে, সম্পূর্ণ বিষয়টি এখন দলীয় পছন্দের উপর নির্ভরশীল দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা আসনটিতে যাকেই মনোনয়ন দিবেন নেতাকর্মীরা তাকেই নেনে নিবেন বলে জানান

Share this:

 
Copyright © Geek Bangladesh. Designed by OddThemes